Thursday, July 20, 2023

এপোলো-১১ মিশনে অংশ নেয়া চাঁদের মাটিতে ঘুরে আসা লাল মানুষ দেখার শৈশব স্মৃতি।


এপোলো-১১ মিশনে অংশ নেয়া চাঁদের মাটিতে ঘুরে আসা লাল মানুষ দেখার শৈশব স্মৃতি।

আমার শৈশবের কথা বলতে গেলে আমি প্রায়ই নস্টালজিয়াতে ভোগি। আজকে আমি আমার শৈশবের একটি ঘটনা বলব। অ্যাপোলো ১১: সফল চন্দ্রাভিযানের গল্পে আমার শৈশব স্মৃতি।

ইতিহাস থেকে আমরা জানি, অ্যাপোলো-১১ এর চন্দ্রাভিযানের সম্পূর্ণ কাহিনী। অ্যাপোলো-১১ প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান ছিল, যা চাঁদে অবতরণ করে। এটি অ্যাপোলো প্রোগ্রামের ৫ম মহাকাশ অভিযাত্রা যাতে নভোচারীরা অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৯ খ্রীস্টাব্দের জুলাই ১৬ তারিখে এই অভিযানের সূচনা হয় এবং ২৪শে জুলাই শেষ হয়। এই অভিযানে অংশ নেন দলপতি নীল আর্মস্ট্রং, কমান্ড মডিউল চালক মাইকেল কলিন্স, এবং চান্দ্র অবতরণযানের চালক ছিলেন বাজ অলড্রিন।

আমি তখন খিলগাও প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ি। আমাদের তিলপাপাড়া এলাকায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বাস ছিল বেশী। এলাকায় দুই ঘর ধনী ছিল কিন্তু তাদের রক্ষনশীলতার কারনে আমরা তাদের বাড়ী যেতাম না। এলাকায় আর তেমন কোন ধনী পরিবার ছিল না যাতে করে আমরা তাদের বাসায় গিয়ে টিভি দেখতে পারি। তখন মহল্লায় টিভির মালিক বলতে ধনী পরিবার ছাড়া সাধারণ পরিবারে টেলিভিশন ক্রয় করার ক্ষমতা চিন্তারও বাইরে ছিল ।

এই সময় আমেরিকার নাসা ঠিক করেছে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে জুলাই ১৬ তারিখ কেনেডি স্পেস সেন্টারের LC 39A, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেখাবে চন্দ্রাভিযানের প্রোগাম। আমার স্কুলের ছোট বন্ধু পাশের বাড়ীর আ: বারেককে নিয়ে খুঁজতে থাকলাম কোথায় টেলিভিশন দেখা যাবে বা কোন বাড়ীওয়ালা সকলের জন্য টিভি দেখার সুযোগ উন্মুক্ত করে দিবে । বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করার পর জানতে পারলাম বাসাবোতে একটা বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার মধ্যে একটি বড় কাঠের টেবিলের উপর বড় সাদাকালো টিভি সেট স্থাপন করেছে। যাতে করে চন্দ্র অভিযানের সরাসরি লাইভ মহল্লার মানুষ দেখতে পারে। সেই বাড়ীটি ছিল খিলগাও তিলপাপাড়া থেকে সোজা কালভার্ট পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গিয়ে হাতের বামে "হিরাঝিল" নামক একটা দোতালা বাড়ির সামনে। পাকা রাস্তার মধ্যে টেবিলের উপর পূর্বমূখী করে বড় একটা সাদা কালো টিভি সেট বসানো হয়েছে । বাড়িটি এখন নেই, ভেঙে বহুতল এপার্টমেন্ট ভবন করা হয়েছে। ঐ স্থান থেকে একটু সামনে গিয়ে হাতের ডানে গেলে বাসাবো খেলার মাঠ পড়বে। সকলের জায়গাটা সহজে চিনবার জন্য একটু বিবরণ দিলাম ।

আমরা দুই বন্ধু সকাল ৯-১০টার সময় ওই বাড়ীর গেলাম। টেলিভিষন খোলা আছে, সামনে বসে আছে ছোট ছেলে-মেয়েরা, তারপর পিছনে বড়রা এবং যারা মাটিতে বসতে চাইনি তারা দাঁড়িয়ে পিছনে থেকে টিভি দেখার জন্য ভিড় করেছিল। পাকিস্তান টিভিতে ঘোষণা হল, কিছুক্ষণের মধ্যে সরাসরি আমরা আমেরিকার সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে মহাকাশযান এর যাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে পাবো । আমরা অধীর আগ্রহে সবাই উৎসুকভাবে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলাম । তারপর একসময় টিভির পর্দায় ভেসে উঠল যেই আমেরিকার নভোস্টেশন। সেখান থেকে ইংরেজিতে ধারাভাষ্য দেওয়া হচ্ছে, মাঝে মাঝে কন্ট্রোলিং সেন্টারে বিজ্ঞানীরা বসে আছে তাদেরকে দেখানো হচ্ছে। একসময় রকেট চালু করা হলো, চারিদিকে ভীষণ ধোঁয়া ছড়িয়ে রকেটটি আকাশের উপরের চলতে শুরু করল। আকাশের উপরের দিকে কিছুক্ষণ পর দেখলাম, কিছু সময় পর পর রকেটের নিম্নের অংশগুলো খসে পড়ছে। আস্তে আস্তে রকেটটি ছোট হয়ে গেল এবং ওখান থেকে পিছনে নিচে ক্যামেরা দিয়ে দেখানো হচ্ছে আমাদের পৃথিবী কত দূরে? এভাবে বেশ সময় পর চলার পর রকেটটা চাঁদের উপর প্রদিক্ষন শুরু করলো। এক সময় পরে রকেটটি ছাদের পৃষ্ঠে নামলো, চাঁদে প্রথম নিল আর্মসস্ট্রং নামলেন । চাঁদের মাটিতে পৃথবী মানুষ প্রথম পা রাখলেন। তারপর দ্বিতীয় নভোচারী। তারপর তারা আমেরিকার পতাকা গ্রথিত করলেন চাঁদের মাটিতে। তারা মাটি সংগ্রহ করলেন আবার রকেটে ফিরে এলেন। তারপর কিছুসময় বাদে প্রোগাম বন্ধ হয়ে গেল, টিভির মালিক টিভি বন্ধ করে দিয়ে বললেন, আজকের প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে । আমার কাছে বিষয়টা সিনেমা দেখার মতো লাগলো। ঘটনাটি আমার মনে খুব একটা দাগ কাটেনি।


পরবর্তীতে পরের দিন পত্রিকাতে প্রথম পাতায় ফলাও করে চাঁদের অভিযানে এপোলো-১১ এর বিশাল ভীষণ ফিচার দেওয়া হলো। তারপর বড়দের মুখে শুনলাম ঐ রকেটিট পৃথীবিতে ফিরে এসেছে। আমরা চাঁদের কথা প্রায় ভুলে গেলাম। স্কুলে যাই রীতিমতো প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী। সেটা সম্ভবত সেই বছরের অর্থাৎ ১৯৬৯ সনের অক্টোবর মাসে কথা, স্কুল থেকে শিক্ষক বললেন- চাঁদে যাওয়ার অভিযানের তিনজন নভোচারী আমেরিকা থেকে পূর্ব পাকিস্তান সফরে, শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন । এসেই বিশেষ শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে দর্শন দেবেন । সরকারী নির্দেশ মতো সব স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বশরীরে নভোচারীদের দেখানোর জন্য প্রোগ্রাম করা হ’ল । আমাদের স্কুল থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যারা যেতে ইচ্ছুক সবাইকে জানানো হলো। বিষয়টারত শর্ত দেয়া হলো, স্কুলের সাদা ড্রেস পরিহিত থাকতে হবে সবাইকে, নইলে কাউকে এলাও করা হবে না । ধার্য হলো নভোচারীদের আগমনের দিন, স্কুল থেকে তেজগাঁও এয়ারপোর্টের রাস্তায় স্কুলের তত্ত্বাবধানে ওখানে স্টুডেন্টদের নেয়া হবে। আবার নভোচারীদের শুভেচ্ছা/সাক্ষাত জ্ঞাপনের পরে ছাত্র-ছাত্রীদের আবার বাসে করে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে। ঐ দিন যে আমি প্রোগ্রামে যাব, আমার কোন স্কুল ড্রেস নাই, তবে ড্রেসটা হতে হবে সাদা শার্ট সাদা প্যান্ট, জুতা। এখন কি উপায় আমার মেঝ বোন বাদরুন নাহার মিতার স্কুল ড্রেস আছে কিন্তু আমার নেই। আমি কান্না শুরু করে দিলাম । আমার স্কুল ড্রেস করে দাও, মা বললেন একদিনে স্কুল ড্রেস করা সম্ভব নয়। মা কাকে যেন বললো, তুই দেখ না তোর বান্ধবীর কোন ভাইয়ের কোন ড্রেস আছে কিনা তা যোগাড় করে দিতে ? তা আমার মেঝ বোন সিপাহীবাগের গিয়ে তার বান্ধবীর বাসায় গেল। তার এক ছোট ভাই আমার ১ বছরের বড় খিলগাও সরকারী হাই স্কুলে পড়তো, তাদের স্কুল ড্রেস সাদা শার্ট সাদা পেন্ট। তো সেদিন সে অনুষ্ঠানে যাবে না, তাই আমার বোন তার বান্ধবীকে অনুরোধ করল যে, তোমার ভাইয়ের ড্রেসটা দাও আমার ছোট ভাইটা সেটা পরিধান করে আগামীকাল স্কুলের প্রোগ্রামে নভোচারীদের দেখতে যাবে। আমার বোনের বান্ধবী রাজি হল এবং তার ছোট ভাইয়ের স্কুল ড্রেসটা আমাকে দিল সাদা শার্ট সাদা প্যান্ট । আমি চিকন ছিলাম,প্যান্টটা কোমড়ে লুজ হচ্ছিল বেল্ট দিয়ে একটু টাইট করে বেধে দিয়েছিল। তো সেখান থেকে আমরা স্কুলে আসি, স্কুলে আসার পর স্কুল টিচার আমাদেরকে গাড়িতে উঠান। তখনকার সময়ে যে বাসগুলি সদরঘাট থেকে খিলগাও হয়ে রামপুরা রোডে চলাচল করতো এমন ৩টি বাসে আমাদের নেয়া হয়েছিল। এখন আমরা যাদেরকে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে কাঠবডি মুড়ির টিনের বাস বলি। স্কুলের স্যার আমাদের সবাইকে নাম ধরে লিস্ট করে বাসে উঠালেন, বাস চলতে শুরু করল রামপুরা বতৃমানের আবুল হোটেল মোড় হয়ে মালিবাগ দিয়ে সেই বাস বাংলা মোটর, পরে ডানের রাস্তায় বাংলা মটর হয়ে সোজা ফার্মগেটের দিকে গেল। 
Apollo-11 Worldwide Tour, Dacca, East Pakistan,October 1969.
ভিডিও Credit : The ATTIC room/NASA/Science Photo Library

তারপর ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও এয়ারপোর্টের নিকটে ড্রাম ফ্যাক্টরীর সামনের রাজপথের পূর্ব পাশে স্টুডেন্টদের নামিয়ে দিল। আমরা স্কুলের সব ছাত্রছাত্রী একটা গ্রুপে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম । বেলা ১২.৩০ টার দিকে একটা সুন্দর খোলা বড় ট্যাক্সিতে করে তিনজন নভোচারী মটর শোভাযাত্রায় তেজগাঁও এয়ারপোর্টের রাজপথ ধরে আমাদের পাশ দিয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল। তারা তিনজন নভোচারী ট্যাক্সির মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই পাশের জনতাকে হাসিমুখে অভিনন্দন জানাতে জানাতে গাড়ি সামনে চলে গেল। আমি জীবনে প্রথম বিদেশী কোনো সাদা মানুষকে দেখলাম, তাদেরকে লাল মানুষ হিসেবে আমার কাছে মনে হলো । পরে ফিরতি যাত্রায় স্কুলের স্যারকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, স্যার চাঁদে গেলে কি মানুষ লাল হয়ে যায় ? আসলে আমি জীবনে প্রথম কোন পশ্চিমা সাদা মানুষ দেখেছি তো, তাই আমার কাছে তাদেরকে লাল মানুষ মনে হয়েছে, অনেকটা ভিনগ্রহের মানুষদের মতো । আবার আমাদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে আসলে বিকাল বেলা, এখান থেকে আমরা যার যার বাসায় চলে যাই ।

 
         আমাদের স্কুল থেকে গিয়ে ঢাকার পুরান এয়ারপোর্ট রোডে দাড়িয়ে Apollo-11 
         মিশনের যে ৩জন নভোচারীদেরকে ১৯৬৯ সনে দেখেছিলাম। ছবিতে বাম 
         থেকে ডানে: আর্মস্ট্রং, কলিন্স, অলড্রিন।

 
          ঢাকার পুরান এয়ারপোর্ট রোডে Apollo-11 মিশনের ৩জন নভোচারীকে 
          দেখার ভীর, ১৯৬৯ সন। 

আমাদের বাসায় এসে আমি বড় আপাকে এবং মাকে জিজ্ঞেস করি, মা যারা চাঁদে যায় তারা কি লাল মানুষ হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে ? তো আমার মা আর বড় আপা সামসুন নাহার খুব মুচকি হাসলেন। বড় আপা বললেন, তুই আরো বড় হলে ইতিহাস পড়লে জানতে পারবি- আসলে নভোচারীরা সকলে ইংরেজ বংশধর ছিল। যদিও তাদের বর্তমানে আমেরিকার নাগরিক বলা হয়। এই বৃটিশ/ইংরেজরা ভারতকে দখল করে বিগত ২০০ বছর শাষন করেছে। তারা ইংরেজ জাতির বংশধর, ইংরেজিতে তাদের বলে হোয়াইট ককেশিয়ান। আর পাকিস্তানের গরম আবহাওয়াতে তাদেরকে ঐ রকম হঠাৎ লাল মানুষ মনে হয়েছে তোর কাছে। যেহেতু আমি জীবনে প্রথম আমেরিকান ইংরেজ দেখেছিতো তাই হয়তো তাদের গায়ের রঙটা ঠিক উপলব্ধি করতে পারিনি।

পরের দিন স্কুলে গিয়ে মেজো বোনের কাছে তার বান্ধবীর ভাইয়ের স্কুল ড্রেসটা ধুয়ে শুঁকিয়ে ফেরত দেই। এমন একটি স্কুলে পড়তাম সেখানে ছাত্র-ছাত্রিরা বাড়ির ফ্যামিলির মতো ইচ্ছামত ড্রেস পড়ে স্কুলে যেত। স্কুলে ড্রেসের কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরে বুঝেছি স্কুল ড্রেস পড়ে থাকলে ছাত্র ছাত্রীর দেখতে কত সুন্দর লাগে, বুঝা যায় তারা খুব স্মার্ট । কিন্তু আমি খিলগাঁও মডেল হাই স্কুলের প্রাইমারী শাখার ছাত্র ছিলাম বলেই আমার স্কুল ড্রেস ছিল না।
ব্যক্তি জীবনে সরকারী চাকুরী থেকে ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হিসেবে অবসর নেয়ায় বেশ অফুরন্ত সময় হাতে এলো। অবসর সময়ে আমি অনলাইনে কিছু লেখালেখি করার চেষ্টা করলাম, ব্লগার হিসেবে কিছু লেখালেখি শুরু করলাম। যা এখন আমার ফেসবুক আইডিতে, সেই ব্লগিং সাইটের প্রায়ই লিংক দেওয়া থাকে আমার গল্পগুচ্ছ, কবিতা, মিউজিক্যাল লিরিক্স পড়ার লিংক দেয়া থাকে।আমি মাঝে মাঝে অনেক ধরনের কনটেন্ট তৈরি করি ফলোয়ারদের জন্য পোষ্ট করি। আমি যখন আমার জীবনের ছোট ছোট ঘটনার গল্প গুলি লিখতে শুরু করলাম, আমার টাইপ করতে খুব কষ্ট হতো। পরে তখন গুগুলের সর্বশেষ ভার্ষনে কিছুদিন আগে ভয়েস টাইপিং সিস্টেম চালু করলো আর এখন আমার খুব ভালো লাগছে, সময় কষ্ট দু’টোই বেচে যায়।অল্প কষ্টে অল্প সময়ে আমি আমার গল্পগুলো বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। এখন আমরা গল্প বলছি, ৫৩ বছর আগে সাদা কাল টিভিতে আমাদের রোমাঞ্চিত হওয়ার অনুভূতিগুলো কি রকম ছিল। যা এখনকার ছেলে মেয়েরা হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না, হেসে উড়িয়ে দিবে। তারা বলবে ওটা খুবই সাধারণ ব্যাপার ছিল । বর্তমানের ডিজিটাল যুগে সবকিছু সহজ আর হাতের মুঠেতে। কিন্তু তখন আমাদের কাছে বিষয়গুলো অনেক অসাধারণ ছিল, বিশ্বাসের বাইরে ছিল প্রত্যেকটি ঘটনা। কারণ আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারে ছিলাম আর তাই যারা একটু ধনী শ্রেণী পরিবার ছিল তাদের বাড়িতে গিয়ে আমরা অনুরোধে তাদের বাসায় গিয়ে টিভি দেখতাম। ভালো কোনো প্রোগ্রাম হলে আমরা দল বেধে তাদের বাড়িতে গিয়ে টিভি দেখতাম। ওঐ পরিবারগুলি বিরক্ত হলে, জানালা দিয়েও টিভি দেখেছি। অনেক সময় টেলিভিশন প্রোগ্রাম দেখতাম, উপভোগ করতাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আজ এত বছর পর যখনই চন্দ্র অভিযানের কথা কোথাও আলোচনা হয় আমার মনে পড়ে যায় শৈশবে আমরা কিভাবে সরাসরি চন্দ্র অভিযানের প্রোগ্রাম টা দেখেছিলাম খুবই সাদামাটা ভাবে। এখনকার ছেলেমেয়েরা, আগের সেই প্রোগ্রামগুলো সাদা কালো প্রোগ্রাম কালার করা ভিডিও রেডিমেড দেখতে পায় তার কাছে বিষয়গুলো খুবই সাধারণ মনে হয়। কিন্তু তখনকার সময় সেটা খুবই অসাধারণ ছিল ।

আজ এত বছর পর শৈশবের সেই ঘটনাগুলো আমাদের কাছে রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। কিভাবে আমরা সেই ঘটনাগুলো দেখেছিলাম, অনুভব করেছিলাম, আজকের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হলো বলেই কিছু ঘটনা উল্লেখ করে লিখে ব্লগ সাইডে আমি উপস্থাপন করলাম । হয়তো এই অংশটা ফেসবুকে আমার ফলোয়াররা জানতে পারবে । কারন সেই সময় সরাসরি পূর্ব পাকিস্তান পরবর্তীতে বাংলাদেশের জনগণ হয়ে আমরা সরাসরি আমেরিকান প্রোগ্রাম দেখে চন্দ্র অভিযানের সাথে নিজেদের সরাসরি আপডেট করতে পেরেছিলাম। সত্যি একটি রোমাঞ্চকর বিষয় ছিল এবং তা আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা বটে । সবাইকে আমার ছোট বেলার কাহিনীটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

লেখক: এস,এম, নজরুল ইসলাম।
তারিখ: ১৯শে জুলাই,২০২৩।
(ভয়েস টা্ইপিংয়ে লেখা)
==============================

চাঁদে মানুষ যাওয়ার ৫০ বছর।

১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০ জুলাই সমাপ্ত হওয়া অ্যাপোলো ১১ এর চাঁদে সফল অভিযান আজও মানবজাতির এক বিস্ময়। সেদিন ৩ নভোচারীর মাইলফলক অর্জনের পেছনে লুকিয়ে আছে কিছু অজানা গল্প।
অর্ধ শতক আগে চাঁদে পা রাখার সময় মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘মানুষের জন্য একটি ছোট্ট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির বিশাল এক অর্জন’। ওই অভিযানের প্রতিকূলতাগুলো থেকেই আর্মস্ট্রংয়ের বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝা যায়।
অ্যাপোলো ১১ মিশনে যে কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আকারে বড় হলেও এখনকার মোবাইল ফোন তার চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী। মিশনে ব্যবহার করা ‘স্যাটার্ন-ফাইভ’ রকেটটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মহাকাশযান।
তারপরও চাঁদে অবতরণের আগে জ্বালানি নিয়ে বিপত্তি বাঁধে। ফিরতি যাত্রার জন্য জ্বালানি ফুরিয়ে নভোচারী আর্মস্ট্রং ও অলড্রিনের মৃত্যুর আশঙ্কাও ছিল।
চাঁদে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি নিল আর্মস্ট্রংয়ের কাছে নভোচারীদের জন্য নির্ধারিত বীমা করার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পরিবারের কাছে অটোগ্রাফযুক্ত কয়েকশ’ কাগজ রেখে যান আর্মস্ট্রং। ভেবেছিলেন, পৃথিবীতে ফিরে না আসতে পারলে অটোগ্রাফ নিলাম করে অর্থ পাবে পরিবার।
ঐতিহাসিক অভিযানের পরও ৩ নভোচারী ক্যাপ্টেন পদে নির্ধারিত বেতনের বাইরে কোনো ভাতা পাননি।
চাঁদে ২১ ঘণ্টা অবস্থান করে ২২ কেজি পাথর ও মাটি নিয়ে ফেরেন ৩ নভোচারী। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণাগারে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে নমুনাগুলো।
অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় চাঁদে উজ্জ্বল প্রতিফলক রেখে আসেন নভোচারীরা। আজও ওই প্রতিফলকে লেজার রশ্মি ফেলে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব নির্ণয় করা হয়।
নভোচারীদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। তাই তিনি শোকাবহ একটি ভাষণও প্রস্তুত রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে সফল চন্দ্রাভিযানের খবরই জানান প্রেসিডেন্ট নিক্সন।

সূত্র্র: চ্যানেল আই অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন,
প্রথম প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০১৯, পুন:প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩।

Wednesday, July 19, 2023

নিজের গভীরে আমি, অন্তরে অন্তরে!

 May be an image of text that says 'S.M. NAZRUL ISLAM Lyricist, Tune Composer, Music Director Cinematographer, Digital Designer & Video Editor'

নিজের গভীরে আমি, অন্তরে অন্তরে!

আমার জন্মস্হান বিক্রমপুরের শ্রীনগর উপজেলার 'ব্রাহ্মনখোলা' নামক একটি অখ্যাত গ্রামে। তবে বর্তমানে আমি ঢাকা শহর কেন্দ্রে পৈত্রিক বাড়ীতে স্হায়ীভাবে বাস করছি । একটি শেখ পরিবারে আমার জন্ম তাই পদবী নিয়ে আমার নাম শেখ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (S.M. Nazrul Islam)। কর্মজীবনে সরকারী কর্মকর্তা ছিলাম। বর্তমানে শখের পেশা - আমি একজন ফ্রিল্যান্সার, ব্লগার, কনটেন্ট রাইটার, গীতিকার, সুরকার ও এমেচার সিংগার।

অবসরে, সময় সুযোগে অন-লাইনে লেখালিখি করি। যেন আমার পরেও লেখাগুলি আগামী দিনের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি অন-লাইন থেকে কোন প্রচার বা উপার্জনের চেষ্টা করিনা। আমি খুবই সংগীত প্রিয় একজন মানুষ। আমার গভীরে আমি, আমি কেমন মানুষ ? জীবনে ভাল লাগা/মন্দ লাগার বিষয়টা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তনশীল। আমার ভাল লাগা/মন্দ লাগার বিষয়ে যা আমি অন্তরে ধারন করি:
শখের বিষয়: নিজের কথায় নিজের সুরে গান করা ও বাগান করা।
প্রথম লেখা: একটি লিরিক (সম্পূর্ন গানের কথা লিখতে ৬মাস লেগেছিল)।
প্রথম শিক্ষক: বড় বোন সামসুন নাহার।
বেশী ভালবাসি: মাকে ।
মানুষ পছন্দ হয়: নিষ্পাপ শিশূদের।
সৌন্দর্য্যের পূজারী: প্রকৃতি ও সুন্দর মানব/সুন্দরী মানবীর সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হলে।
জীবনী পছন্দ: মহামানব ও মনিষীদের জীবনী।
পছন্দের রং: ফিরোজা/নীল ।
পছন্দের ফুল: গোলাপ/গন্ধরাজ।
পছন্দের ফল: আম ও কলা।
পছন্দের খাবার: ভাত-মাছ।
সেরা কবি (কাব্যগ্রন্থ): কবি নজরুল ইসলাম।
সেরা লেখক (উপন্যাস): নীহার রন্জন গূপ্ত।
পছন্দের উপন্যাস: কড়ি দিয়ে কিনলাম।
পড়াশুনার বিষয়: ধর্ম,কল্যানকর প্রযুক্তি/সফটওয়ার, অজানা রহস্য,মহাকাশ ও সমূদ্র।
পছন্দের লেখা: নিজের কবিতা/লিরিকস/জীবনের গল্পগূচ্ছ।
নিজস্ব ব্লগ সাইট: www.blogger.com/profile/18129982803879256478
নিজ প্রফেশনাল সাইট: www.linkedin.com/in/recentbd
অতীত কর্ম সংস্থা: বিসিআইসি, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। www.bcic.gov.bd
পছন্দের সিনেমা: এন আনফরগটেবল অ্যটাম (মংগোলিয়ান কিশোর প্রেমের গল্প)।
নিজ এলাকা: ঢাকা'র খিলগাও।
পৃথিবীতে আগমন: ১২ই জানুয়ারী।
ভাল লাগার দিন: ১লা বৈশাখ/১লা ফাল্গুন।
বেদনার দিন: ১৮ই রমজান (মায়ের মৃত্যুর দিন)।
আমার দোষচক্র: আমার সত্য ও ন্যয় কথা কেউ বিশ্বাস না করলে রেগে যাই।
যা ভালো লাগে: নতুন লিরিকে, নতুন সুরে মিউজিক সৃষ্টিতে।
ঘৃণার চোখে দেখি: মিথ্যুক,স্বার্থবাদী, প্রতারক, অকৃতজ্ঞ ও গাদ্দারকে।
সন্দেহের চোখে দেখি: যে সকল মহিলারা চকচকে ইমিটেশন গহনার মতো নিজের উজ্জলতা প্রকাশে বেশী সচেষ্ট হয়।
যা বিরক্ত লাগে: মিথ্যা বলে ইনবক্সে/ফোনে কেউ টাকা চাইলে।
যা রাগ সৃষ্টি করে: মিথ্যা কথা বললে ও মিথ্যা বদনাম করলে।
রাগের বহি:প্রকাশ: অনলাইনে আনফ্রেন্ড করি/ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করি।
বিশ্বাস ভংগ করলে: আত্নীয় কিংবা অনাত্নীয় যে কাউকে পছন্দের তালিকা থেকে বাদ দেই, প্রয়োজনে সম্পর্কচ্ছেদ করি।
মন খারাপ থাকলে: একাকী থাকি, গান শুনি/গান গাই।
কষ্ট প্রকাশ করি: ঘটনা প্রবাহ/কবিতা/গল্প/গান লিখে।
যখন দু:খ হয়: প্রিয়জন কেউ ভুল বোঝলে।
অসূস্থ্য হলে: পৃথিবীর সব অর্জন মুল্যহীন মনে হয়। অসম্পূর্ন কাজগুলির কথা মনে পড়ে।
স্মৃতির বছর: ১৯৭১ (বাবার সাথে রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ভাষন শোনা ও মুক্তিযুদ্ধ), ১৯৭৪ (বন্যা ও স্কুল ভিজিটে আসা বংগবন্ধুর সাথে হেন্ডশেক) ও ১৯৮৮ সনের বন্যা।
অতীত স্মরনে: দিনগুলি আর ফিরবে না ভেবে কষ্ট লাগে, সেই স্মৃতির মানুষগুলিকে আবার দেখতে ও জায়গাগুলি ভ্রমনে ইচ্ছা জাগে।
মন ভালো থাকলে: বন্ধুদের খোজ নেই/একা ঘুরতে বের হই।
উপদেশ প্রদানে: অপরের কল্যানে সর্বদা সৎ উপদেশ দেই ।
মনে প্রশান্তি হয়: দূস্থ: ও অসহায় মানুষদেরকে মুক্ত হস্তে দান করলে।
যে স্বপ্ন দেখি: দূস্থ: ও অসহায়দের জন্য একটি চ্যারিটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলবো।
সারাংশে: জীবনে বেশীর সময় একাকী চলতে চলতে আমার পৃথিবী খুবই আইসোলেটেড, পছন্দের বন্ধু-বান্ধব হাতে গোনা দু'চারটে। এই আমি আপন স্বত্তাকে অনেক ভালবাসি; অপরকে অন্ধ অনুসরন করতে ভাল লাগে না, আত্ন-অহংকারী নীচু মনের মানুষকে এড়িয়ে চলি, মূল্যহীন গাল-গপ্প করে সময়ের অপচয় না করে বিশ্রাম নেয়া উত্তম মনে করি, সহজে খারাপের সাথে নিজেকে মিশতে দেই না।
@এস,এম, নজরুল ইসলাম

Tuesday, July 18, 2023

'আজমেরী জাহান তাসনিম' এর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর সংবাদ ।

 

 

 আমার সেঝো বোন কামরুন নাহার বিকাল ৪.০ টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফিরেছে। সে ফোনে আমাকে জানালো, মেঝ আপার মেয়ে 'তাসনিম' নাকি মারা গেছে! আমরা যাচ্ছি, আপানি আমাদের সাথে মিরপুর 'তাসনিম'দের বাসায় যাবেন ? এমন একটি অপ্রত্যশিত মৃত্যুর সংবাদ শুনে মাথাটা ব্যাথায় ভারি হয়ে উঠলো, আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পূর্ব থেকে অসুস্থ্যাতার কোন খবর নেই, ভাবিনি হঠাৎ করেই কাউকে না জানিয়ে তাসনিম এভাবে আমাদের ছেড়ে যাবে, সাজানো ভালবাসার সুখী সংসার আর তার একমাত্র ৫ বছরের ছেলে জেইন-কে একা রেখে অসময়ে, এতো অল্প বয়সে না ফেরার দেশে চলে যাবে! 
 
আল্লাহ তার স্বভাবিক মৃত্যু দিলে, সে কতো কথাই না বলে যেত আমাদের! ভাগ্যমতে সময় পেলে সে হয়তো অনেক কিছুই বলে যেত, তার কাছাকাছি থাকা প্রিয় মা বদরুন নাহারকে, প্রিয় ভাই মিনহাজুল হক সবুজকে, প্রিয় সন্তান জেইনকে আর প্রিয় স্বামী নাহিদ হাসানকে। তাইতো মানতে পারছিলাম না আদরের ভাগ্নির অসময়ে কাউকে কিছু না বলে এই কষ্টকর বিদায় নেয়াটা।
 
ভাবতে কষ্ট লাগছে - আমার মেঝ বোনের আদরের একমাত্র মেয়ে, আমার ভাগ্নি আজমেরী জাহান তাসনিম কখনোই মিস্টি কন্ঠে মামা বলে আমাকে আর ডাকবে না, সে প্রতিদিনের মজার মজার আর আপটডেট পোষ্ট করবে না, ছেলে জেইনকে নিয়ে নানা ধরনের হোম ভিডিও ক্লিপের স্টোরীও আর পোষ্ট দিবে না ফেইসবুকে.....। 
 
অনেকবার ভেবেছি- অনেকদিন হয় তাসনিমের সাথে সামনাসামনি দেখা হয়না, বহু ব্যস্ততার মাঝেও একদিন সময় করে মিরপুরে তাসনিমকে দেখতে যাব। আর যাওয়া হলো না, আর দেখাও হলো না আমাদের দু’জনার। এই জীবনে, আমাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনাও আর অবশিষ্ট রইলো না। আমরা একবারও চিন্তা করি না প্রিয়জনদেরকে মাঝে মাঝে দেখা দেয়া, একান্তভাবে সময় দেয়া কতটা প্রয়োজন। আফসোস, এভাবে অপূর্ণ থেকে যায় হৃদয় ডালির ভালবাসা, আদর ও স্নেহ, যা মৃত্যুর কারনে ছিন্ন হলেই নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করি আর চোখের জলে সময়কে দোষ দেই। তাইতো আমি কখনই আর তাসনিমকে ফোনে কল করতে পারব না, আমি কখনই তাকে আর মেসেজ দিতে পারব না, ফেসবুকে তাকে আর কোন কিছু শেয়ার করতে পারব না! তবুও আমরা বেচে আছি বলে, চোখের জলে নীরবে মানতে হচ্ছে আজমেরী জাহান তাসনিম এর চিরদিনের জন্য এই চলে যাওয়া। ঘরে-বাইরে স্বজন মহলে সে ছিল একটি প্রিয় মুখ, সবাই তাকে খুবই ভালবাসতো। তাইতো বড় ভাই ও স্বামীর আইডিতে ফেসবুক পোষ্টে দেখা যায়, তাসনিমের প্রিয় মানুষগুলো অন্তরের ভালবাসা প্রকাশ করছে, প্রান খুলে দোয়া করছে, তার আত্নার মাগফেরাত কমানা করছে। তার মৃত্যুতে মন ভীষন ভারাক্রান্ত ও ব্যথিত ছিল, শোক কাটিয়ে কিছু লিখতে পারছিলাম না।
 
গত ২৯শে আগষ্ট,২০২১ তারিখ বিকেলে তাসনিমের মৃত্যুর খবরে পেয়ে আমরা সকলে খিরগাও তিলপাপাড়া থেকে শেষ বারের মতো তাসিনিম-কে দেখতে ও বিদায় জানাতে গিয়েছিলাম তার শ্বশুরালয়ে, স্বামী নাহিদ হাসানের ঢাকাস্থ মিরপুর, পল্লবী, পলাশনগরের বাড়ীতে। বাড়ীর অনতিদূরে স্থানীয় পলাশনগর জামে মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষনা করা হচ্ছিল- মরহুমার শ্বশূরের নাম, সাথে তার ছোট ছেলে নাহিদের স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ ও মরহুমার জানাজা নামাজের সময়। শোক সংবাদ শূনে মহল্লাবাসী, আত্নীয়-স্বজন আসছে সমবেদনা জানাতে। সত্যি বিশ্বাস করতে হলো, আমাদের আদরের ভাগ্নি আজমেরী জাহান তাসনিম ইন্তেকাল করেছে। জানলাম, হাসপাতালের ডাক্তার বলেছে- সিভিয়ার পেটের ব্যাথা থেকে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং একই সাথে বমি হওয়ায় পর ‘সাডেন কার্ডিয়াক এরেষ্ট’ হওয়ায় হার্ট ফেইল করে তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারী ভাষায় যাই বলা হউক না কেন, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আদেশে তার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে বলেই পরপারের উদ্দেশ্যে এই মৃত্যু-যাত্রা। হঠাৎ মৃত্যুর নির্ধারিত উছিলাতে মা-মনি আজমেরী জাহান তাসনিম আত্নীয়-স্বজন কাউকেই কোন প্রকার কষ্ট না দিয়ে নীরবে এই পৃখিবীতে নশ্বর দেহ ত্যাগ করে চিরকালের জন্য পরপারের ঠিকানায় চলে গেছে অনন্তকালের জন্য। কষ্টদায়ক হলে সত্যি যে, এভাবেই সম্ভাবনাময় একটি জীবনের ও একটি অসমাপ্ত গল্পের যবনিকা হলো।
 
২৯শে আগষ্ট,২০২১ তারিখ দিবাগত রাতে পলাশনগর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে এশা'র ফরজ নামাজের পর মরহুমার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। মসজিদ সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত ছোট পরিসরের ওয়াকফকৃত পলাশ নগর কবরস্থানে রাত প্রায় ৯.০০ টার সময় মসজিদের ইমাম সাহেবের নির্দেশনা মতে মরহুমার ভাই সবুজ ও স্বামী নাহিদ লাশ কবরে রাখলো এবং মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অত্যন্ত সম্মানের সাথে মরহুমা আজমেরী জাহান তাসনিমকে সমাহিত করা হলো। পরকালের দীর্ঘ যাত্রায় সামিল হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো আমাদের মা-মনি। সকলে মরহুমার কবরের উপর এক মুষ্ঠি করে মাটি দিলাম এবং সকলে মিলিত ভাবে মরহুমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করলাম। 
 
আমরা আজ আবার সকলে মিলিত ভাবে মরহুমা আজমেরী জাহান তাসনিম এর রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করি। প্রার্থনায় দোয়া করি, আল্লাহ যেন মরহুমার সকল জানা-অজানা গোনাহ মাফ করে দেন। পৃথিবীতে থাকাকালীন কল্যানকর ভাল কাজের জন্য আল্লাহ তাকে যেন পুরস্কৃত করেন। তার জীবিত স্বজনদের এই শোক সইবার ও সহ্য করার ক্ষমাত দেন। আল্লাহ যেন তার আত্নাকে জান্নাতে থাকার সুযোগ করে দেন। ইহ-জগতে তার রেখে যাওয়া একমাত্র ছেলে জেইন যেন সুন্দরভাবে বাবা, দাদা-দাদী, নানী, মামা ও স্বজনদের অবারিত প্রকৃত আদর, স্নেহ, ভালবাসায় বেড়ে উঠে। আল্লাহর ইচ্ছায় ছেলে জেইন যেন সুস্থ্যতার সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত পায়। মায়ের শোক যেন তার জীবন চলার পথে বাধা হয়ে না দাড়ায়। আমাদের সকলকে যেহেতেু নির্ধারিত সময়ে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে, তাই আল্লাহ তার মহান ইচ্ছায় মুসলিম হিসাবে আমাদের সকলকে যেন সম্মানজনক মৃত্যু দান করেন। আমীন।
 
- মেঝ মামা, এস. এম. নজরুল ইসলাম, খিলগাও (তিলপাপাড়া), ঢাকা।
 
 
 
 
 
২০২২ সালের ২৯শে আগস্ট ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে মেঝ বোনের মরহুমা কন্যা মা-মনি তাসনিমকে স্মরন করছি। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত দান করুন..................
 
“নি:শব্দে তোমায় খুজি সব স্মৃতির মাঝে”
************************************
কবি : এস, এম, নজরুল ইসলাম।
রচনাকাল : ১১-০৯-২০২১খ্রি:।
 
দূরের আলোতে তুমি থাকো আকাশে
গো-ধুলি প্রান্তে, নীলিমা জুড়ে।
হৃদয় ঘরের প্রধান ফটকে অপেক্ষা,
হয়তো তোমার আসার কলিং বেল বেজে উঠবে।
 
এই বুঝি তুমি ফিরে এলে আবার….......
হৃদয় পথে ছুটে যাই বাড়ীর ফটকে,
নি:শব্দে তোমায় খুজি সব স্মৃতির মাঝে।
 
সম্মুখ নয়নে সকলই ফাকা,
কি করে ছবির এলবামে লুকিয়ে গেলে ?
তোমার জন্য পৃথিবী আজ নিয়েছে বিদায়।
 
তবু তোমার টুকরো ছায়ায়,
ডুবে আছে কত মিথ্যে আগুন,
অন্ধকারময়,কত স্মৃতি, কত সময়।
তোমার জন্য পৃথিবীতে আজকে ছুটির রোদ।
 
নিজেদের মাঝে তোমার খোঁজে,
শুধু আকাশ পানে তাকিয়ে থাকা,
নীলিমায় সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে
যদি তুমি হেসে উঠ আবার ফিরতি পথে।
 
জাগ্রত শ্রুতিতে, তোমার কোলাহল নেই,
বাধানো ফ্রেমে নির্বাক তুমি চারিদিকে নিস্তব্ধতা।
তাসনিম তুমি নেই, হারিয়েছ অনন্ত তিমিরে,
আজি সবকিছুতেই হৃদয়ের অব্যক্ত কষ্টের বারতা।
 
©কপিরাইট সংরক্ষিত (লেখক কর্তৃক)
ফটো ক্রেডিট: সায়মা শারমিন সূমি।
 

৭ই মার্চের ভাষন ও বংগবন্ধুকে ছূয়ে দেখার টুকরো গল্প-কথা।

 

 

৭ই মার্চের ভাষন ও বংগবন্ধুকে ছূয়ে দেখার টুকরো গল্প-কথা (গল্প নয় সত্যি)।

 
আমার জীবনের স্মরণীয় কিছু গল্পগুচ্ছ আকারে উপস্থাপন করব বলে মনে করি, কিন্তু সময় হয়ে উঠেনা। অনেক সময় দেখা যায়, সেই স্মৃতিকথা মনে করলে খুব কষ্ট লাগে আবার কখনো খুব ভালো লাগে। মনে হয়, যদি আবার সেই সময় গুলো ফিরে আসতো আমার জীবনে বা আমি ফিরে যেতে পারতাম আবার জীবন অতীতে।
 
১৯৭১ সন। আমার বয়স সেই সময়ে ৯/১০ বছর হবে, তখন একদিন দেখি সবাই রেসকোর্স ময়দানে যাবে বড় ছোট অনেকেই মানুষ যাচ্ছে কিন্তু রেসকোর্স তো আমি চিনি না আমারও যেতে ইচ্ছা করে। সেখানে কি হবে ? সেখানে শেখ মুজিবর রহমান ভাষণ দিবেন বাংগালী জাতির মুক্তির জন্য। তারিখ ছিল ৭ই মার্চ ১৯৭১ সাল । আমার শ্রদ্ধেয় বাবা মরহুম শেখ মো: মোবারক আলী তখন ইস্ট পাকিস্তান পোষ্টাল ডিপার্টমেন্টে সুপারিনটেন্ডেন্ট পদে চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে তিনি ইস্ট পাকিস্তান পোষ্টাল ইউনিয়নের নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারী ছিলেন। তখন সরকারী অফিস টাইম ছিল সকাল ৭.০০ থেকে দুপুর ২.০০ টা পর্যন্ত। আমি হঠাৎ একদিন দেখলাম দুপুরের পর আমার বাবা পাঞ্জাবী-পায়জামা পড়ে রওনা দিয়েছেন কোথাও যাচ্ছেন।আমার মনে হলো, তিনিও হয়তো রেসকোর্স ময়দানে যাবেন। 
 
তখন খিলগাঁও তিলপাপাড়া দিয়ে খিলগাও রেলগেইট থেকে কোন রাস্তা ছিল না, আমরা গুলিস্তান বা মতিঝিল বা সদরঘাট অন্যান্য দিকে যেতে হলে, পায়ে হেটে বাসাবো রেল ক্রসিং(বর্তমানে এর অস্তিত্ত নেই, বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তদস্থলে একটি ফুট ওভার ব্রিজ করা হয়েছে) পার হয়ে শাহজাহানপুর এর ভিতর দিয়ে কলোনির মধ্য পথ দিয়ে মতিঝিল সেন্ট্রাল গভমেন্ট হাইস্কুলের সামনে এসে বড় রাস্তায় মূল যাত্রা করতে হতো। তারপর তিলপাপাড়া থেকে আরেকটা রাস্তা ছিল সেটা হল, খিলগাঁও ৮০ ফুট রাস্তা দিয়ে পশ্চিম দিকে শাজাহানপুর রেলগেট নামে ছোট লেভেল ক্রসিং পার হয়ে রেললাইন ঘেঁষে (এখন খিলগাঁও বাজারে ভিতরে পড়েছে রাস্তাটা)রাস্তা ধরে গিয়ে ইনকাম ট্যাক্স কলোনি হয়ে মতিঝিল সেন্ট্রাল গভমেন্ট হাইস্কুলের সামনে এসে ডানে/বামে বড় রাস্তা দিয়ে বড় গাড়ি চলাচল করতো, বড় গাড়ি বাস মানে কাঠবডি মুড়ির টিন। তখন এই রাস্তা দিয়ে লোকাল বাসে (মুড়ির টিনে) করে আমরা সবাই রামপুরা থেকে খিলগাঁও হয়ে সদরঘাট যাতায়াত করতাম। তো পায়ে হেঁটে যোগাযোগের জন্য বাসাবো রেল ক্রসিং পার হয়ে আমরা চলে যেতাম ঐ পথ ধরে মতিঝিল রাজপথে। 
 
গল্পে ফিরি, আমার বাবা যাচ্ছেন, অন্যান্য লোকদের সাথে মিলে আমি বাবাকে ফলো করতে থাকলাম, মতিঝিল সেন্ট্রাল গভমেন্ট হাইস্কুলের ডানদিকে মির্জা আব্বাসের বাড়ির সামনে থেকে সোজা পশ্চিম দিকে রাজারবাগের রাজপথ ধরে হাঁটতে থাকলাম। শত শত মানুষ রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলেছে রেসকোর্স ময়দানের উদ্দেশ্যে । তখন শাহজাহানপুর ভিতর দিয়ে রোডটা ছিল না, বাবাকে ফলো করে আমি রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে ফকিরাপুল বাজারের ভিতর দিয়ে সোজা মতিঝিল ১৬তলা বিল্ডিং বরাবর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার বড় রাস্তায় উঠে গেলাম। সেখান থেকে একটু ডানে গেলেই দৈনিক পাকিস্তান খবরের কাগজের অফিস (যেটা বর্তমানে দৈনিক বাংলার মোড় বলে) আমি বড় রাস্তায় উঠে হাজার হাজার মানুষ দেখতে পেয়ে ভয় পেয়ে গেলাম। আমি পিছন থেকে ‘বাবা, বাবা, আমি যাব, আমি যাব’ এ কথা বলে চিৎকার করতে থাকি হঠাৎ আমার বাবা পিছন দিকে তাকিয়ে দেখে আমি তাকে ফলো করছি। তখন বাবা অবাক হয়ে গেল কিরে তুই আমার সাথে আসতেছিস কেন ? তা আমি বললাম, আমি ভাষণ শুনতে যাব, তখন দুপুর আড়াইটা হয়ে গেছে পিজ ঢালা পথ গরম তাপ ছড়াচ্ছে। কোন গাড়ি নেই হরতাল/বন্ধের ডাক দেয়া হয়েছে তাই। বাবার সাথে আমি হাটছি, পিস ঢালা পথ গরম হয়ে গেছে, আমার পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেল ছিল। নিরুপায় হয়ে বাবা আমাকে হাত ধরে সামনে নিয়ে চললেন। আমার মনে পড়ল, প্রেসক্লাবের সামনে আমরা আসি, তারপর বিজয়নগর পার হয়ে সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ডান পাশ দিয়ে হাইকোর্টের সামনে গেলাম। তখন বাবা আমার হাত জোড় করে শক্তভাবে ধরে রেখেছেন, যেন আমি ছুটে না যাই। আমি চারিদিক দেখছিলাম আর রোমান্চিত হচ্ছিলাম। তারপর যেতে যেতে রমনা পার্কের কাছে এলাম যেটা রমনা পার্ক বাম পাশে হাইকোর্টের সামনের বড় পথ ধরে আমরা সামনের দিকে চললাম। 
 
ঘোড়া দৌড়ের রেসকোর্স ময়দান ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এর পাশে অবস্থিত ছিল। একটু সামনে গিয়ে দিয়ে বড় কাঠের বেড়ার নিচ দিয়ে ফাঁক গলিয়ে আমরা অন্যান্য মানুষের সাথে আমরাও ঢুকে পরলাম মাঠের মধ্যে। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছে, আমরা লক্ষ মানুষের কাছে গিয়ে বসলাম। খোলা ঘাসের মাঠ, বসা তো নয় মানে অনেকটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাই ভাষণ শুনতে ছিলাম (ইতিমধ্যে ভাষণ শুরু হয়ে গিয়েছে)। অনেকক্ষণ আমি আকাশের দিকে থাকলাম, বিদেশীরা হেলিকপ্টার দিয়ে ভিডিও করতেছে, জনগণের উপর চক্কর দিতেছে। জীবনে প্রথম কাছে থেকে উড়ন্ত হেলিকপ্টার দেখলাম। আমার বাবার পাশে একজন ভদ্রলোক ছিলেন, দেখতে সুন্দর, অনেক হ্যান্ডসাম লম্বা ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, বাবু তুমি তোমার আব্বুর সাথে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে এসেছ ? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বরলেন, তোমার তো অনেক সাহস ! আমি বললাম, ওই যে মাইকের মধ্যে বক্তৃতা দিতেছে আমি ওই মানুষটারেকে দেখবf, উনি কোথায় তখন কথা বলেন ? ঐ ভদ্রলোক আমাকে উচু করে উপড়ে তুলে ধরে তার ঘাড়ের উপরে বসালেন এবং বললেন, ওই যে দূরে ডান দিকে মঞ্চের উপর সাদা পাঞ্জাবীর উপড় কালো কোট পড়া, একজন হাত উঁচু করে জোরে জোরে বক্তৃতা করতেছেন উনি শেখ মুজিবুর রহমান, উনি আমাদের নেতা, উনি পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদেরকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন । তখন প্রায় বিকাল গড়িয়ে গেছে, শেখ মুজিবুর রহমান বরলেন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিব, এদশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।“ আমি অবাক হয়ে গেলাম, বক্তৃতা শুনে মন শিহরিত হলো। তাহলে আমরা পারধীন আছি ? আমার মনের মধ্যে একটা বাসনা জাগলো, এই লোকটাকে যদি আমি সামনে থেকে দেখতে পারতাম। এরই মধ্যে কখন জানি অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল। বক্তৃতা শেষ হয়ে গেলে সবাই বাইরের দিকে ছুট তে লাগলো। বাবা আমাকে জোর করে হাতে ধরে রাখলেন, যাতে করে আমি হারিয়ে না যাই। তারপর আমি যেহেতু ছোট ছিলাম বড় বড় মানুষের ভীরে আমি আশেপাশে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না শুধু আকাশ দেখছিলাম। বাবার ধরা হাতে পিছু পিছু দ্রুত বাবার সাথে হেঁটে চলছি, বাবা আমাকে ধরে রেখেছেন তারপর আমার আর কিছু মনে নাই হাঁটতে হাঁটতে আমরা কোন দিক দিয়ে যে আবার খিলগাঁর বাড়ীতে এসেছি আমার সেটা মনে করতে পারছি না । আমার মনে হয়, রাত হয়ে গিয়েছিল, এক সময় দেখলাম আমি বাবার সাথে বাসায় গেটের সামনে চলে এসেছি। চারিদিক অন্ধকার নেমে আসছে। তখন আমাদের এলাকায় ইলেকট্রিসিটি লাইন বসেনি তাই রাস্তায় তেমন আলো ছিল না। 
 
তারপর স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ। আমরা আমাদের খিলগাঁয়ের বাড়ীতে ছিলাম প্রায় সারা যুদ্ধের বছর। তারপর দেশ স্বাধীন হলো, ১৯৭২ সালে স্কুলে আমাদের সবাইকে অটো-প্রমোশন দেয়া হলো, ক্লাশ এইটে উঠলাম। বংগবন্ধূ শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে বাংলাদেশে চলে এলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের হাল ধরলেন, শাসনভার গ্রহণ করলেন। রেডিওতে প্রতিদনি বংগবন্ধূর ভাষনের খন্ড বক্তৃতাংশ প্রচার করা হতো। 
 
এর মধ্যে আমি স্কুলে ১৯৭৪ সালে নিউ টেন ক্লাসে উঠলাম। তখন সারাদেশে বন্যা, ঢাকা শহর ডুবে গিয়েছিল কোন লেখাপড়া ছিল না। আমাদের রেশন কার্ড দিয়ে চাল, গম, চিনি উঠানো, এটিই আমার ডিউটি ছিল। তখন খিলগাও এ নৌকা করে এদিক সেদিক যেতে হতো । 
 
হঠাৎ একদিন শুনি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের খিলগাও এ স্কুল ভিজিটে ত্রান কার্যক্রম দেখতে আসবেন। আমাদের স্কুলের আগের হেডমাস্টার ছিলেন মিসির আলি স্যার।তিনি পরবর্তীতে এই এলাকার আমাদের এলাকার সংসদের এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি খিলগাও মডেল কলেজ স্থাপন করেন।বঙ্গবন্ধু তাকে খুব ভালবাসতেন, তার অনুরোধে খিলগাও মডেল হাইস্কুলে বঙ্গবন্ধু আসবেন। যেই শুনা, সেই কাজ। আমি আগেই বিষয়টি লোক মুখে বিষয়টি জনেছিলাম। আমাদের তিলপাপাড়তে এখন যে ‘ঢাকা হোটেল’ হয়েছে, এর পাশে জোরপুকুর নামে একটা পুকুর ছিল, সে পুকুরের ডান পাশে একটি রেসের ঘোড়া পালতো, আমি ওই বাড়ির পাশ দিয়ে কোমর সমান পানি ভেঙে ৮০ ফুট রাস্তা দিয়ে আমি খিলগাও মডেল স্কুলের মেইনগেট দিয়ে ভিতরে ঢুকি। অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু আসবে বলে, তো আমি গেটের সামনে দু’ধারে দাঁড়ানোর জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গেইট দিয়ে ঢুকছেন, তখন দেখলাম পাশে আমাদের মিসির আলি স্যার আছেন। দুই পাশে দুইটা পুলিশ ছিল, বঙ্গবন্ধু পায়ে হেঁটে হাটুর উপর পর্যন্ত তার পানি ছিল সেভাবে তিনি স্কুলে ঢুকেছিলেন। আমি হঠাৎ দৌড়ে পানি ভেংগে তার সামনে গিয়ে আমার দুই হাতে তার ডান হাত ধরে হ্যান্ডশেক করি আর বঙ্গবন্ধুকে বলি, আমি আমার আব্বার সাথে গিয়ে আপনার ৭ই মার্চের ভাষণ রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে শুনেছি । তখন বঙ্গবন্ধু আমার মাথায় চুলের মধ্যে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো, এতো পানির মধ্যে আমাকে দেখতে এসেছ? তখন পুলিশ এসে আমাকে বলল, যাও তুমি পাশে গিয়ে দাঁড়াও (আমার সাথে কেউ কোন খারাপ ব্যবহার করেনি)। বিষয়টা তখন আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তো বঙ্গবন্ধুর সাথে হ্যান্ডশেক করার সময় আমার মনে হল, “তার হাতটা বিশাল বড়, আমি ছোট মানুষ দুই হাত দিয়ে তার সাথে হ্যান্ডশেক করেছি আর তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন” এই স্মৃতিটা আমার জীবনের একটা স্মরণীয় ঘটনা বলে আমি মনে করি। 
 
এতদিন পর ১৯৭৫ সনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যখন আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো তার সাথে সাথে ইন্টারনেটের যুগ চলে আসলো। সবাই ফেসবুক, লিংকেডইন, ব্লগার সাইট, আরো অনেক ধরনের ডিজিটাল ব্যবহার করতে শুরু করলো, আমিও ফেসবুকে আমার আইডি খুললাম, তো দেখলাম ৭ই মার্চের ভাষণে আমরা তখন টেলিভিশনে সাদা কালো বক্তৃতা দেখেছিলাম।বর্তমানে তো দেখলাম, সাদাকালো ভিডিও এটা রঙিন করা হয়েছে। সেই ভিডিওটা আপলোড করা হয়েছে, আমি স্মৃতি কাতর হয়ে সেই ফেলে আসা বাবার সাথে রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের বক্তৃতা শোনার বিষয়টা বারবার আমার মনে উদিত হতে লাগলো। সেই অনুপ্রেরণা থেকে আমি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলাম তো ভাবলাম সে পোস্টটা খুব ছোট ছিল। এখন এতদিন পরে আমার মনে হলো, আমার জীবনে গল্প রয়েছে, আমার বন্ধুরা, সহপাঠীরা বা ফেসবুকের ফলোয়াররা আমার এই ঘটনাটা কিভাবে নেবে জানিনা। তবে আমার বাবা যেহেতু রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তিনি ইস্ট পাকিস্তান পোস্টাল ইউনিয়ন এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। বাবার মুখে শূনতাম- বঙ্গবন্ধুর সাথে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল, যোগাযোগ ছিল । তো সেই সুবাদে উনি প্রায়ই ৩২ নম্বর ধানমন্ডি বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তো আমি এতদিন পরে মনে করি, আমি ইতিহাসের ছোট একটি অংশের সাক্ষী, সেরা মানব যারা পৃথিবীতে এখন বেঁচে নেই কিন্তু অমর হয়ে আছেন। এবং তারা দেশব্যাপী সমাদৃত ইতিহাসের অংশ, আমি সেই ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখেছিলাম কাছে থেকে, হাত দিয়ে স্পর্শ করে। আজ অনেকেই নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক পরিচয় দিয়ে নিজেদের জাহির করেন।আমার বয়সী অনেকে আছেন, তারা কি কখনো বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে দেখেছিলেন? হয়তো না কিন্তু অনেককেই এমনভাবে রাজনীতিতে বক্তৃতা করতে দেখি যে, মনে হয় তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে ছূয়ে দেখেছিলেন আমার মতন । সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে হয়তো কয়েকজন সরাসরি বঙ্গবন্ধুর সাথে থেকে ১৯৭১ সনের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনেছিল। আমার জীবনে কোন এক সময় ঢাকা শহরে বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে ছুঁয়ে দেখেছিলাম। সেই সুবাদে আমি মনে করি, আমি একটি ইতিহাসের অলিখিত অজানা ছোট একটা অংশ। খুব ভালো লাগে, এ বিষয়গুলো যখন আমি স্মৃতিচারণ করি। ভাবতে এত ভালো লাগে যে, সত্যি আমি যদি তখন রাজনীতিতে জড়িত হতাম আমি অনেক বড় পদে আজ অধিষ্ঠিত থাকতাম, যেহেতু আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমার কর্ম জীবন শেষ করেছি তাই রাজনীতি করার সুযোগ আমার আর হয়নি। তবে আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি, ছূয়ে দেখা বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি। যেহেতু তাকে আমি ছুঁয়ে দেখেছি, বঙ্গবন্ধু বাস্তবে কি ছিলেন যারা কোনদিন বঙ্গবন্ধুকে দেখেননি, ছুঁয়ে দেখা তো দূরের কথা। তারা লোকমুখে শুনে বা পারিবারিক মত অনুসরন করে দল করেন, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে অনেক কথা বলেন কিন্তু নিজেরা সে আদর্শ কোনদিনও নিজেদেরকে জীবনপথে চালিত করতে পারেন না। আমার মনে হয়, যেটা অনেকটা অতিরিক্ত অতিরঞ্জিত লোক দেখানো আবেগ প্রকাশের নামান্তর মাত্র। 
 
আমার মনে হল, আমার জীবনের এই গুচ্ছগল্পের ঘটনাটি লিখে যাই, এই ছোট গল্পটি আমার পরবর্তী প্রজন্ম যাতে পড়ে জানতে পারে আমরা স্বাধীনতার একটা যুদ্ধের অংশ ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পরিবার তথা বাবা নিজ পেশায় থেকে রাজনীতিতে সমর্থন যুগিয়েছেন। বাবার মুখে শুনেছি, পাকিস্তান তথা পরবর্তীতে বাংলাদেশ আমলে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন চার নেতার একজন জনাব কামরুজ্জামান। সত্যি আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি, রাজনীতি না করেও বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসের আমি একটা ছোট অংশ হতে পেরেছি। এতাদিন পর মনে হয়, উপরের ঘটনাটি আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল, যা আমার স্মৃতির ভান্ডারকে রোমাঞ্চকর করেছে বলে আমি করি। 
 
লেখক: এস,এম, নজরুল ইসলাম।
তারিখ: ১৯-০৭-২০২৩খ্রি:।
(প্রথম ভয়েস টাইপিংয়ে লেখা)

Monday, November 7, 2022

স্মৃতির পাতায় ঢাকাতে ১৯৮৮ সনের ভয়াবহ বন্যার দিনগুলি ।

 

 No photo description available. May be an image of lake No photo description available. May be an image of lake

স্মৃতির পাতায় ঢাকাতে ১৯৮৮ সনের ভয়াবহ বন্যার দিনগুলি 

লেখক: এস, এম, নজরুল ইসলাম 
 

উপরের সংগৃহীত ছবিগুলি ১৯৮৮ সনের দেশব্যাপী বন্যার সময়কালের খিলগাও তালতলা মার্কেট, গোড়ান বাজার, বাসাবো, খিলগাও সি-ব্লক এলাকা থেকে তোলা হয়েছে। 

ছবিগুলি বন্যার সময়কার আমার স্মৃতির পাতা্র অতীত বাস্তবতা। তখন আমার নিজ পরিবারের সকল সদস্যরা ঢাকার মিরপুর-১০ এ বসবাস করতো। আমি ঐ সময় একা খিলগাও এ অবস্থান করছিলাম। ১৯৮৮ সনের বন্যার সময় খিলগাও এলাকার প্রতিটি পাকা রাস্তায় গাড়ীর ইন্জিন পানিতে ডুবে যেত বলে কোন গাড়ি চলাচল করতো না। ঐ সময় খিলগাও রেইলগেটের পুর্ব (তিলপাপাড়া রোড) ও উত্তর (৮০ ফুট রোড) দিকের ঢালু পাকা রাস্তাতে ২টি অস্থায়ী নৌকা ঘাট হয়েছিল। নৌকা চালকরা ডেকে ডেকে নৌকায় বিভিন্ন গন্তব্যের পেসেন্জার তুলতো।

খিলগাও, তিলপাপাড়া ৭নং রোডে অবস্থিত আমাদের নিজেদের বাড়ী ২২৩নং এ ও বড় বোনের ২১৫ নং টিনশেড বাসার ভিতরে কোমর সমান পানি উঠেছিল। ফলে সকল ভাড়াটিয়ারা নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে খিলগাও রেইলগেট থেকে আমি আমাদের বাসা দেখতে যেতাম। কোষা নৌকায় যাওয়া ও খিলগাও রেইলগেট ফিরতি আসা ৫+৫ টাকা। নৌকা থেকে বাড়ী দেখতাম, বাড়ীর ভিতর ঢোকা সম্ভব হতো না। কখনো আবার ২/৩ জন মিলে পাকা রাস্তায় কোমড় সমান পানি ভেংগে আমাদের ও বড় বোনের বাড়ীর ভিতরে দেখে আসতাম। 

তখন কম্পিউটার ট্রেনিং ক্লাশ করার জন্য খিলগাও রেইলগেট থেকে মতিঝিল বিআইডব্লিওটিসি ভবনে বন্ধু মতিনুর রহমানের অফিসে যেতাম ঠেলাগাড়ীতে জনপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা করে। শাহজাহানপুর-রাজারবাগ মোড় থেকে সমগ্র মতিঝিল পানিতে ডুবে গিয়েছিল। তাই বন্যার সময় আমারা সবাই এমন ভাবেই শহরের ভিতরে যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। 

বিগত ১৯৮৮ সনের বন্যার সময় আমি খিলগাও রেইলগেট সংলগ্ন একটি ভবনে এক পরিচিত জনের বাসায় ও ঘনিষ্টজন ডা: আব্দুুর রব ভাইয়ের ঔষধের দোকানে ১৫ দিনের মতো শেয়ারিং করে রাত যাপন করেছি আর খাবার খেয়েছি হোটেলে।  সেই ১৯৮৮ সনের বন্যার সময় ডা: আব্দুুর রব ভাইয়ের এক মেয়ের জন্ম হয়েছিল, তাই তার নাম রাখা হয়েছিল নাসরিন জাহান ওরফে 'বন্যা'। 

চারিদিকে পানি আর পানি, কোথাও বেড়ানোর জায়গা ছিল না তাই প্রতিদিন বিকেল বেলা রেইলগেট সংলগ্ন দোতলায় হোমিও ঔষধের দোকান 'শারমিন হোমিও হল' এর সামনে বসে মানুষের কোলাহল ও নৌকায় যাতায়াত দেখতাম। 

এই ১৯৮৮-র বন্যা ছিলো বাংলাদেশে সংঘটিত প্রলংকারী বন্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে সংঘটিত এই বন্যায় দেশের প্রায় ৬০% এলাকা ডুবে যায় এবং স্থানভেদে এই বন্যাটি ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো। এটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষয়-ক্ষতিময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই বন্যার দিনগুলিতে ভাসমানভাবে বসবাসকারী সকলের সাথে আমার ফেলে আসা খুব মনে পড়ে।

ঐ বন্যার সময়টা ছিল আমার জীবন ঘনিষ্ঠ স্মৃতিময় এক রোমান্চকর কাহিনী।

 

Saturday, November 5, 2022

"শিকল বন্দি বানর জীবন" VS "রিমোট কন্ট্রোল রোবট" ।

 


এস,এম, নজরুল ইসলামের জীবন ঘনিষ্ট টুকরো গল্প-কথা (০২)

May be an image of 3 people, animal and outdoors  May be an image of 2 people

"শিকল বন্দি বানর জীবন" VS "রিমোট কন্ট্রোল রোবট" 

লেখক: এস, এম, নজরুল ইসলাম। প্রকাশের তারিখ: ০৭-১১-২০২২ খ্রি:।

আপনারা নিশ্চয় দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার-মহল্লায়, খোলা জায়গায় প্রশিক্ষিত বানর দিয়ে পাবলিকদের খেলা দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতে দেখেছেন।আমি তাদের নিয়ে একটু আলোচনা করবো।
 
আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, ঐ সকল বানরের মালিক যে সকল বন্য বানর দিয়ে খেলা দেখায় সেগুলিকে প্রকৃতির বানর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে শিশুকাল থেকে পোষ মানিয়ে ট্রেইন্ড-আপ করানো হয়। বন্য বানর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই বানরগুলির মগজে মানুষ্য সমাজে সহবসবাসের মেন্টালিটি তৈরী করা হয়। আর অর্থ আদায়ের জন্য সময়ে সময়ে ট্রেনিংয়ের নামে অত্যাচার করে শিক্ষাতে রপ্ত করা হয়। পরবর্তীতে মানুষ নিজেদের স্বার্থে পোষা বানরগুলি দিয়ে লোকালয়ের বিভিন্ন স্থানে খেলা দেখোনোর সময়, বানরগুলিকে সময়ে সময়ে কিছু মৌখিক, হাতের লাঠি দিয়ে মাটিতে আঘাত করে বা শব্দভিত্তিক নির্দেশনা দেয়া হয় এবং বানরগুলি তা খেয়াল করে তার মালিকের ট্রেনিং মতে নির্দেশগুলি প্রতিপালন করে উপস্থিত দর্শকদের মনোরন্জন করে থাকে। পরবর্তীতে বানরের মালিক নিজে ভিক্ষা না করে ঐ বানরগুলিকে দিয়ে দর্শকদের কাছে হাত পেতে বকশিশ/টাকা বা ভিক্ষা চাওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। মালিকের নির্দেশ না মানলে পরবর্তিতে হয়তো তাদেরকে অনাহারে থাকতে হতে পারে বা অত্যাচারের শিকার হতে পারে। তাই ভয়ে সব নির্দেশ প্রতিপালন করা ছাড়া উপায় থাকে না।
 
আপনি জ্ঞানী হলে একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন যে, এখানেই টোটাল পারফরমেন্সের জন্য বানরের কোন ক্রেডিট নেই, সকল ক্রেডিটই প্রাপ্য ঐ বানরের দড়ি/শেকল হাতে ধরা লোকটির যে পিছন থেকে সকল কল-কাঠি নাড়ছে আর বানরগুলিকে কন্ট্রোল করছে। কারন শিশুকাল থেকে বানরগুলিকে এমনভাবে শিক্ষা দেয়া হয় যে বানরগুলি মালিকের কথার অবাধ্য হতে সাহস করে না কখনো।আর সে যে একটি বানর প্রজাতির চতুর প্রানি এটাও সে ভুলে যেতে বাধ্য হয় কারন শাস্তির ভয়, খাবার প্রদান কন্ট্রোল, যেখানে সেখানে মুক্তভাবে অবাধ চলাচল করার বিষয়টি বানরের কল্পনারও বাইরের থাকে! বানর মনে করে সে ছুটে পালাতে চাইলেও মালিক তাকে ধরে ফেলবে আর মারধর করবে শাস্তি দিবে তাই সে পালাতেও সাহস সন্চয় করতে পারে না।
 
মনেবিজ্ঞানের ভাষায়, দীর্ঘদিন যাবত নিজস্ব স্বভাব বিরোধী লাইফ প্র্যাকটিসের ফলে এই সকল প্রানিগুলির মুক্ত বিবেক, বুদ্ধি অনেকটা লোপ পায়। পৃথিবীতে যে একটা মুক্ত বানর সমাজ আছে তা বানরগুলিকে শিশুকাল থেকেই ভুলিয়ে দেয়া হয়। তাই চেষ্টা করলেও বন্দি বানরগুলি কোনদিনও আর ফিরে যেতে পারে না স্বাভাবিক জংগল জীবনে অথবা তাদের মুক্ত বানর সমাজে। এই বানরগুলি হতাশায় দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, কোনক্রমে ফিরে যেতে পারলেও হয়তো তাদেরকে আর তাদের বানর সমাজে সহজভাবে গ্রহন নাও করতে পারে। তাছাড়া মুক্তভাবে বাঁচতে গেলে যে শক্তি, বুদ্ধি, সামজিক জ্ঞান, শক্তি ও সাহস দরকার, বয়সের তুলনায় সেগুলি তাদের মধ্যে অভাব থাকে। বানরটি বিজাতীয় মানুষ সমাজে নিজস্ব বন্চিত সমাজ ব্যবস্থাহীন পরিবেশে বেড়ে উঠায় তার দেহে ও মনে তৈরী হয়ে উঠে না নিজ জাতীয় স্বাধীন স্বত্তার।
 
বর্তমানে একই রকম ঘটনারই যে পূনরাবৃতির ঘটছে আমাদের সমাজের বহু সংসারে তা অনেক বাবারা বুঝেও বুঝে না যে, নিজ স্ত্রী তথা মায়ের কারনে তাদের সন্তানগুলি শিকল বন্দি বানর জীবনের মতো বেড়ে উঠছে বা উঠেছে। পক্ষান্তরে ‘শিকল বন্দি বানর জীবন’ কথাটা বেশ পুরানো তাই বর্তমানে এই কথাগুলির স্থলে আধুনিক ‘রিমোট কন্ট্রোল রোবট মানকি” এর কথাগুলি উল্লেখ করা যেতে পারে। 
 
এবার বলবো এই গল্পের প্রভাব আমাদের সংসার জীবনে কিভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে? উপরের শিকল বন্দি বানরের গল্প কিন্তু আমাদের সমাজে প্রায়শ: দেখতে পাবেন। সংসারে অনেক বাবারা কোনদিনও তার সন্তানের এই অধ:পতনের উৎস খুজে পায় না, কারন বাবারা মর্যাদাগতভাবে মানবিক ও মূল্যায়নের দিক দিয়ে অবমূল্যায়িত হওয়ায় তাদের স্ত্রীর উপর ১০০% নির্ভরশীল থাকে। ফলে সংসারের গোপন অনেক বিষয়ই শ্বশুরবাড়ীর লোকজন ছাড়া বাবাকে কখনোই লোভি ও আত্নকেন্দ্রিক মায়েরা তা বলে না বা এরুপ ঘটনা অস্বীকার করে। আর এভাবেই চলতে থাকে মূল্যবোধের অবক্ষয়। আর এভাবে ক্ষয়ে যাওয়া সংসার নাটক শেষ দৃশ্য অবধি চলতে থাকে, যতক্ষন না ছেলের নিজের নতুন বিবাহিত সংসারে আগুন লেগে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে ধ্বংস না হয়। মূর্খ, আত্নকেন্দ্রিক ও অপরিনামদর্শী মায়েদের লোভে কি পরিনাম ধ্বংস আর ক্ষতি হয় এইসব ছেলেদের জীবনে ও সংসারে, যা ভাষায় প্রকাশের কোন স্বস্তি থাকে না।
 
কাছে থেকে দেখা এরকম দু'টি পরিবারের কাহিনী বলবো আজ। 
 
 কিছুদিন আগের ঘটনা, ফ্যামিলিটি আমাদের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো। ভদ্রলোকের পরিবার খুবই ধার্মিক প্রকৃতির। তার একটি বিবাহিত মেয়ে ও তার নাতনি নিজেদের সাথে বসবাস করতো। ঐ বিবাহিত মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দরী ও শিক্ষিতা ছিল। কেউ বুঝতেই পারবে না এই বিবাহিত মেয়েটির দূর্বিসহ জীবনের গল্প কতটুকু কষ্টকর ।
 
অসমাপ্ত...লেখা শেষ হয়নি....... চলবে।
 
ফটো ক্রেডিট: ShutterStock, Google.

এপোলো-১১ মিশনে অংশ নেয়া চাঁদের মাটিতে ঘুরে আসা লাল মানুষ দেখার শৈশব স্মৃতি।

এপোলো-১১ মিশনে অংশ নেয়া চাঁদের মাটিতে ঘুরে আসা লাল মানুষ দেখার শৈশব স্মৃতি। আমার শৈশবের কথা বলতে গেলে আমি প্রায়ই নস্টালজিয়াতে ভোগি। আজকে আ...